Home » Bengali, Dhaka, Freedom Fighter, News, War Criminal, কালের কন্ঠ

বীর শহীদদের ভুলে না যাওয়ার শপথ

6 March 2010 Original Source: Link

‘যুদ্ধাপরাধের বিচারে সপ্তাহের মধ্যেই বিচারক নিয়োগ হবে’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিচারক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি এম তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিচার শুরুর সব কাজ শেষ হয়েছে। বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।
গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের খেলার মাঠে ‘মুক্তির উৎসব-২০১০’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত এ উৎসবে কয়েক হাজার স্কুল শিক্ষার্থীকে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের ভুলে না যাওয়ার শপথ পড়ান মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবি।
মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উৎসবে অংশ নেন।
সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলীর স্বাগত বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের শপথ পড়ান তারামন বিবি।
ছাত্রছাত্রীরা হাত উঁচু করে তারামন বিবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের ভুলে না যাওয়ার শপথ নেয়। সমবেত কণ্ঠে তারা বলে, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহন করে আমরা দেশকে আগামীর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এমন সমাজ গড়ব, যেখানে সব ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্ম এক দিনে হয়নি। এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও আমরা লক্ষ্যে পেঁৗছাতে পারিনি। কারণ, এ দীর্ঘ সময় ধরে জাতিকে দুটি কলঙ্ক বহন করতে হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচারের মাধ্যমে একটি কলঙ্ক দূর হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে বাকি কলঙ্ক দূর করা হবে।’
শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশকে বাঁচানোর জন্য নবীনদের কাজ করতে হবে। মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি_এ তিনটি বিষয় সামনে রেখে জীবন গড়তে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একটিবারের জন্য হলেও দেশের জন্য কোনো অবদান রাখা উচিত। তোমরা যখনই কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে দেখবে, তখনই তাঁকে বলবে, আপনাকে ধন্যবাদ, আপনারা আমাদের দেশ দিয়েছেন, স্বাধীনতা দিয়েছেন।’
শিক্ষার্থীদের শপথ পড়িয়ে তারামন বিবি বলেন, ‘সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার দায়িত্ব তোমাদেরই। যুদ্ধাপরাধীরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এ ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।’
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সমন্বয়ক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন অর রশিদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তাদের এদেশি দোসরদের পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশের জাতীয় পতাকা আজ তোমাদের হাতে তুলে দিলাম। আমি বিশ্বাস করি, তোমরা মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভবন তৈরির কথা জানিয়ে এটি নির্মাণে সবাইকে সাধ্যমতো সহায়তা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রাজধানীর ৭২টি ও রাজধানীর বাইরের সাতটি বিদ্যালয় থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের গান, কবিতা পাঠ ও র‌্যাফেল ড্রর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাথায় ছিল বাংলাদেশের পতাকার আদলে তৈরি লাল-সবুজ ক্যাপ। অনেক শিক্ষার্থী পতাকার রঙের জামা-কাপড় পরে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।

Keywords/

Added by: Khan Muhammad

Comments are closed.