মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল খুলি-হাড়, শাঁখা-অলংকার
বাগেরহাটে একাত্তরের গণহত্যার আলামত

বাগেরহাট শহরের কেবি বাজার এলাকার একটি বাড়িতে পানির ট্যাংকি নির্মাণের সময় মাটি খুঁড়ে মানুষের মাথার খুলি, হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হাড় পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে হিন্দু নারীদের ব্যবহৃত শাঁখা-অলংকারও উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর ধারণা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের দোসর-নরঘাতক রাজাকাররা নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে হতভাগ্য এসব মানুষকে গণমাটি চাপা দিয়েছিল। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে যথাযথ খনন করলে গণকবরের সন্ধান মিলতে পারে। বুধবার বাগেরহাট পৌরসভার বাসাবাটি কেবি বাজারসংলগ্ন মৎস্য ব্যবসায়ী আবেদ আলীর বাড়িতে পানির ট্যাংকি তৈরির জন্য মাটি খুঁড়ে শ্রমিকরা মানুষের মাথার খুলি, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হাড় ও হিন্দু নারীদের পরিধেয় শাঁখা-অলংকার দেখতে পায়।
শ্রমিক এনছান উদ্দিন জানান, প্রায় ৩-৪ ফুট মাটি কাটার পর অনেকগুলো হাড়গোড় দেখতে পায়। আরো একটু খনন করলে অনেকগুলো মানুষের মাথার খুলি, হাত-পা ও দেহের বিভিন্ন অংশের হাড় বেরিয়ে আসে। এ সময় ১২-১৪টি পূর্ণাঙ্গ ও অসংখ্য ভাঙা শাঁখাও উদ্ধার হয়। এতে তাঁরা (শ্রমিকরা) আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এ বাড়ির মালিক ছিলেন রাখাল পাল। ১৯৭১-এ রাখাল পাল পরিবার-পরিজনসহ ভারতে চলে যান। এ সময় স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী মকবুল হোসেন এ বাড়ির মালিক হন। ওই সময় বাগেরহাটের রাজাকার ও পিস কমিটির নেতারা এ বাড়িতে মিটিং করত। তাদের সহায়তায় স্বাধীনতার সপক্ষের অনেক মানুষকে ধরে এনে হত্যা করে এ বাড়ির ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া হতে পারে। কয়েক হাত বদলের ধারাবাহিকতায় এখন এ বাড়ির মালিক মৎস্য আড়তদার আবেদ আলী।
আবেদ আলী জানান, তিনি এসব বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না। তিনি টাকা দিয়ে বাড়ি কিনেছেন। এখন খনন করতে গিয়ে হাড়গোড়সহ শাঁখাও পাওয়া গেছে। তবে বাড়ির মালিক এ বিষয়ে আর কোনো কৌতূহল দেখাতে অনাগ্রহী। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে যথাযথ খনন করলে গণকবরের সন্ধান মিলতে পারে। যা মুক্তিযুদ্ধে বাগেরহাটের আরো এক বিভীষিকাময় অধ্যায়ের উন্মোচন করতে পারে। বাগেরহাট সদর থানা থেকে মাত্র চার শ গজ দূরে হলেও এ বিষয়ে সদর থানার ওসি শাহিদুল আলম শাহীন কোনো খবর পাননি বলে জানান।
Keywords/








